পায়েস রেসিপি – দুধ, চাল আর গুড় দিয়ে বানানো প্রাচীন বাঙালি মিষ্টান্ন
পায়েস – বাঙালির উৎসব, জন্মদিন ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ
পায়েস বা চালের ক্ষীর শুধুই একটি মিষ্টান্ন নয়, এটি আবেগ, ঐতিহ্য ও পুরনো দিনের স্মৃতির প্রতীক। জন্মদিন, পুজো, নববর্ষ বা যে কোনো শুভ কাজে পায়েস না থাকলে যেন পূর্ণতা পায় না। এই রেসিপিতে থাকছে কীভাবে সহজে ঘরেই তৈরি করতে পারেন দুধ, চাল আর গুড় বা চিনি দিয়ে সেরা স্বাদের পায়েস।
উপকরণ (৪-৫ জনের জন্য)
- গোবিন্দভোগ চাল – ১/২ কাপ (বা বাসমতি চাল)
- পুরো ফ্যাটের দুধ – ১ লিটার
- গুড় (খেজুর গুড় হলে ভালো) – ১/২ কাপ (চাইলে চিনি ব্যবহার করতে পারেন)
- তেজপাতা – ১টি
- এলাইচ গুঁড়ো – ১/৪ চা চামচ
- ঘি – ১ চা চামচ
- কাজু, কিসমিস, পেস্তা – পরিমাণমতো (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী
১. প্রথমে চাল ভালো করে ধুয়ে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
২. কড়াই বা হেভি বটমড পাত্রে দুধ বসিয়ে দিন ফুটতে। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন যাতে দুধ নিচে লেগে না যায়।
৩. দুধ ফুটে অর্ধেক হয়ে এলে তাতে চাল দিয়ে দিন। খুব আস্তে আস্তে নাড়তে থাকুন যাতে চাল ভেঙে না যায়।
৪. চাল সিদ্ধ হয়ে দুধ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন।
৫. এবার গুড় (গলানো অবস্থায়) আস্তে করে মিশিয়ে দিন। মনে রাখবেন গরম দুধে গুড় দিলে দুধ ছেঁকে যেতে পারে, তাই হালকা ঠান্ডা হলে গুড় দিন।
৬. এবার এলাচ গুঁড়ো, ভাজা কিসমিস, কাজু দিয়ে দিন। চাইলে একটু ঘি ছড়িয়ে আরও সুগন্ধি করা যায়।
৭. পরিবেশন করুন গরম বা ঠান্ডা পায়েস – যেভাবেই পছন্দ হয়।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
✔ পায়েস বানানোর জন্য গোবিন্দভোগ চাল ব্যবহার করলে বিশেষ ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
✔ খেজুর গুড় ব্যবহার করলে শীতকালের স্পেশাল স্বাদ আসে। গরম দুধে গুড় মেশাবেন না – এতে দুধ ফাটার আশঙ্কা থাকে।
✔ কাজু, কিসমিস আগে ঘি-তে ভেজে নিলে স্বাদ দ্বিগুণ হয়।
✔ চাইলে চিনি ও গুড় দুটোই ব্যবহার করতে পারেন – অর্ধেক অর্ধেক পরিমাণে।
✔ পায়েস ঘন বা পাতলা যেভাবে পছন্দ, সেই অনুযায়ী দুধ কমাতে বা বাড়াতে পারেন।
উপসংহার
পায়েস শুধুই একটি রেসিপি নয় – এটি বাঙালির আত্মিক অনুভব। ঠাকুরঘরের ভোগ থেকে শুরু করে দিদার বানানো জন্মদিনের পায়েস – সবই মিশে আছে এই একটি পদে। আপনি যদি আজই মিষ্টির বদলে ঘরোয়া কিছু স্পেশাল খেতে চান, তাহলে এই দুধ-চাল-গুড়ের পায়েস একবার ট্রাই করতেই হবে।