উত্তর কোরিয়ার একসঙ্গে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ, বাড়ল আঞ্চলিক উত্তেজনা
উত্তর কোরিয়ার মিসাইল উৎক্ষেপণ ঘিরে নতুন উত্তেজনা
উত্তর কোরিয়া আবারও একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করায় পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০ অগস্ট পিয়ংইয়ং অঞ্চলের কাছ থেকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উত্তর কোরিয়ার পূর্ব দিকের জলসীমার দিকে ছোড়া হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। জাপানও এই উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মিসাইলগুলি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বা EEZ-এর বাইরে গিয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত বিমান বা জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
এই উৎক্ষেপণ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মহড়ার পরিসর কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও পিয়ংইয়ং সেটিকে যথেষ্ট মনে করেনি। উত্তর কোরিয়া এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
উৎক্ষেপণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাবে, ২০ অগস্ট বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে মিসাইলগুলি উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এগুলির সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং আনুমানিক ৩২০ কিলোমিটার উড়ে সেগুলি জাপানের EEZ-এর বাইরে পড়েছে।
- উত্তর কোরিয়া প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে।
- মিসাইলগুলি পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে পূর্ব দিকের জলসীমার দিকে ছোড়া হয়।
- জাপানের EEZ-এর বাইরে মিসাইলগুলি পতিত হয়েছে বলে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে।
- মিসাইলগুলি আনুমানিক ৩২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকা ও জাপান উৎক্ষেপণগুলির বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য আদানপ্রদান করছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই নতুন করে মিসাইল উৎক্ষেপণকে দক্ষিণ কোরিয়া ও তার মিত্ররা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ২০ অগস্টের উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয় এবং পিয়ংইয়ংকে ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে ১২ অগস্টও উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছিল। সেটি প্রায় ৬৯০ কিলোমিটার উড়ে জাপানের EEZ-এর বাইরে গিয়ে পড়েছিল বলে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল। ওই ঘটনার পর আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কর্মকর্তারা টেলিফোনে আলোচনা করে উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং মিসাইল উৎক্ষেপণটি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার মধ্যেই পরীক্ষা
সাম্প্রতিক মিসাইল উৎক্ষেপণের সঙ্গে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের মহড়ার বিরোধিতা করে এসেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও সিউলের বক্তব্য, যৌথ মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ। ফলে মহড়া, মিসাইল পরীক্ষা এবং পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
বর্তমান উৎক্ষেপণটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ICBM হিসেবে নিশ্চিত হয়নি। বরং সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য রিপোর্টে এগুলিকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নতুন প্রযুক্তির ICBM উৎক্ষেপণের দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। তবে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।