শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা – সঠিকভাবে বাড়ন্ত শরীরের যত্ন নিন
শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিশুরা প্রতিনিয়ত বেড়ে ওঠে — শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে। এই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। শুধু পেট ভরানো খাবার নয়, এমন খাদ্য দরকার যা তাদের শরীর গঠনে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের খাবারে থাকা উচিত সঠিক পরিমাণ প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেল।
১-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি আদর্শ দৈনিক পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা
সকাল (ব্রেকফাস্ট):
- ১ গ্লাস দুধ (ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের উৎস)
- ২টি পাউরুটি বা রুটি, সঙ্গে পিনাট বাটার বা ডিম
- ১টি ফল – যেমন কলা, আপেল বা কমলা
মধ্য সকাল (স্ন্যাকস):
- মুড়ি-চিঁড়ে ও বাদামের মিক্স
- হোমমেড ফলের চাট বা টক দই
দুপুরের খাবার:
- ১ বাটি ভাত বা ২টি রুটি
- ১ পিস মাছ বা ১ ডিম বা সেদ্ধ মুরগির মাংস
- ১ বাটি সবজি (লাউ, মিক্সড ভেজ, পালং)
- ১ বাটি ডাল
- ১ গ্লাস জল
বিকেলের জলখাবার:
- হ্যান্ডমেড স্যান্ডউইচ (সবজি বা ডিম দিয়ে)
- সুজির হালুয়া বা ওটস বার
- ১ গ্লাস লস্যি বা ফলের জুস (চিনি ছাড়া)
রাতের খাবার:
- ২টি রুটি বা হালকা ভাত
- সবজি বা ডিম/ডাল
- ১ বাটি টক দই
ঘুমানোর আগে:
- অর্ধেক গ্লাস গরম দুধ (যদি অভ্যাস থাকে)
শিশুদের খাবারে অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিংক এবং প্যাকেটজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়ানো উচিত। বাড়ির তৈরি স্ন্যাকস, মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি এবং ডিম-মাছ প্রোটিনে ভরপুর এবং সহজেই হজমযোগ্য।
এছাড়াও, প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান, বাইরে খেলা, এবং পর্যাপ্ত ঘুমও শিশুদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
মনে রাখবেন, শিশুর এখনকার খাদ্যভ্যাস ভবিষ্যতের শরীর ও মনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই আজ থেকেই শুরু করুন একটি পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা এবং শিশুদের দিন দিন আরও ফিট ও স্বাস্থ্যবান করে তুলুন।