স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ঘুমের গুরুত্ব – ভালো ঘুমে ভালো জীবন
ঘুমের অভাব কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?
আজকের ব্যস্ত জীবনে ঘুমকে আমরা যেন অবহেলা করেই চলেছি। অফিস, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা স্ট্রেস—সবকিছুর ভিড়ে ঘুম যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঘুমের অভাব শরীর ও মনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত থাকে, মনোযোগ কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে, হরমোন ব্যালান্স করে এবং ব্রেন বিশ্রাম পায়। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ঘুম কমাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এমনকি বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ে।
শিশু ও টিনএজারদের জন্য ঘুম আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘুমের মধ্য দিয়েই তাঁদের শরীর ও মস্তিষ্ক সঠিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে যা করবেন
রাতে ভালো ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস রপ্ত করা দরকার। প্রথমত, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি শরীরের বায়োলজিকাল ক্লক ঠিক রাখে। ঘুমের আগে ক্যাফেইন (চা/কফি) না খাওয়াই ভালো। ঘুমানোর আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ ব্লু লাইট ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ কে বাধা দেয়।
একটি আরামদায়ক বেড, শান্ত পরিবেশ ও অন্ধকার ঘর ঘুমের জন্য উপযোগী। আপনি চাইলে ঘুমের আগে হালকা মিউজিক, বুক রিডিং বা ধ্যান (মেডিটেশন) করতে পারেন—এগুলো মানসিক শান্তি দেয় এবং দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ বা শারীরিক ব্যথা থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজের জন্য কিছু "me-time" রাখা দরকার—যেখানে আপনি নিজেকে রিল্যাক্স করতে পারবেন।
মনে রাখবেন, ভালো ঘুম মানেই শুধু বিশ্রাম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকর জীবনের ভিত্তি। ঘুম ঠিক না থাকলে খাবার, ব্যায়াম বা ওষুধ সবই ব্যর্থ হতে পারে। তাই ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন, সুস্থ থাকুন এবং ভালো থাকুন।