তেল কচু – আলু ও কচু দিয়ে তৈরি ঘরোয়া নিরামিষ পদ
তেল কচু – ঘরোয়া রান্নায় মন ভরানো নিরামিষ স্বাদ
তেল কচু একেবারেই বাঙালির ঘরোয়া রান্নাঘরের পরিচিত নিরামিষ পদ। কচুর মচমচে স্বাদ, আলুর নরম মোলায়েম টেক্সচার আর সরষের তেলে কষানো মশলা – এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক অসাধারণ স্বাদের তরকারি। এটি বিশেষত ভালো লাগে গরম ভাতের সঙ্গে, দুপুরের হালকা মেনুতে বা উপবাসের দিনেও। এই রেসিপিটি খুব সহজ, কম উপকরণে তৈরি এবং হজমে সহায়ক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- কচু – ৫০০ গ্রাম (মাঝারি আকারে কাটা ও সিদ্ধ করা)
- আলু – ২টি (ছোট কিউব করে কাটা)
- পেঁয়াজ – ১টি (পাতলা কুচি, ঐচ্ছিক)
- শুকনো লঙ্কা – ২টি
- তেজপাতা – ১টি
- হলুদ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
- লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ (স্বাদমতো)
- জিরে গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
- পাঁচফোড়ন – ১/২ চা চামচ
- লবণ – স্বাদ অনুযায়ী
- সরষের তেল – ৩–৪ টেবিল চামচ
রান্নার পদ্ধতি – ধাপে ধাপে
১. কচু প্রস্তুত করা:
কচুগুলোকে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর ছোট ছোট টুকরো করে প্রেসার কুকারে বা খোলা পাত্রে সামান্য নুন দিয়ে আধা সিদ্ধ করে নিন। বেশি সিদ্ধ করবেন না – নরম হয়ে গেলে তরকারি আটকে যেতে পারে। সিদ্ধ হয়ে গেলে জল ঝরিয়ে রাখুন।
২. আলু ভাজা:
কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে আলু হালকা হলুদ দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। এতে তরকারিতে আলু ভেঙে যাবে না এবং স্বাদও বাড়বে।
৩. ফোড়ন দেওয়া:
একই তেলে শুকনো লঙ্কা ও পাঁচফোড়ন দিয়ে দিন। সঙ্গে দিন তেজপাতা। এগুলো থেকে সুগন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ কুচি দিন (যদি ব্যবহার করেন) এবং হালকা ভাজুন।
৪. মশলা কষানো:
এবার তাতে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো ও অল্প জল দিয়ে কষিয়ে নিন। মশলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে, এতে ভাজা আলু ও সিদ্ধ কচু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
৫. তেল ছাড়ানো:
মাঝারি আঁচে ৮–১০ মিনিট ভালো করে নেড়েচেড়ে কষাতে থাকুন যতক্ষণ না তেল ছেড়ে দেয়। কচু যেন গলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। চাইলে ১ চা চামচ ঘি বা অল্প চিনি দিতে পারেন বাড়তি স্বাদের জন্য।
৬. পরিবেশন:
রান্না হয়ে গেলে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। চাইলে পাঁপড়, স্যালাড বা এক ফোঁটা লেবু রস দিয়ে খেতে পারেন।
উপদেশ ও টিপস
✔ কচু বেশি সিদ্ধ করবেন না, নরম হয়ে গেলে খিচুড়ি হয়ে যেতে পারে।
✔ যদি কচুতে চুলকানি হয়, তবে ১ চামচ লেবুর রস দিয়ে সিদ্ধ করুন – চুলকানি কমে যাবে।
✔ শুকনো কচু ব্যবহার করলেও একই রেসিপিতে চলবে, শুধু বেশি ফুটিয়ে নিতে হবে।
✔ পেঁয়াজ না দিলে এটি একেবারে নিরামিষ হয়ে যায় – উপবাসেও খাওয়া যায়।
✔ সরষের তেল ছাড়া এই পদে ঠিক সেই ঘরোয়া স্বাদ আসবে না, তাই তেল ভালো করে গরম করে ব্যবহার করুন।
উপসংহার
তেল কচু একেবারেই সহজ, ঝটপট তৈরি হওয়া, কিন্তু ভীষণ স্বাদযুক্ত একটি পদ। এটি যেমন শরীরের পক্ষে উপকারী, তেমনই রুচিবর্ধকও। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাঁদের জন্য কচু দারুন উপকারী। ঘরোয়া এই স্বাদের ছোঁয়া আপনার রান্নায় আনুন এবং পরিবারের সবাইকে চমকে দিন।
আজই রান্না করে দেখুন – গরম ভাত আর তেল কচু, আর কিছুই চাই না!