পাঁঠার ঝোল – রিচ স্পাইসি গ্রেভিতে রান্না করা পাঁঠার মাংস
পাঁঠার ঝোল – বাঙালির রবিবারের অমোঘ আকর্ষণ
পাঁঠার ঝোল মানেই বাঙালির রবিবার দুপুর। এক প্লেট গরম ভাত আর ঘন গ্রেভিতে কষানো ঝালঝোলা পাঁঠার মাংস – শুনলেই জিভে জল আসে। শীতকাল হোক বা বর্ষা, কিংবা সপ্তাহান্তের বিশেষ দিন – এই পদ বাঙালির হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে বহু যুগ ধরে। আজ আমরা জানব কীভাবে ঘরে তৈরি করা যায় সেই রিচ ও স্পাইসি পাঁঠার ঝোল যা স্বাদে-গন্ধে রেস্টুরেন্টকেও হার মানায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- পাঁঠার মাংস – ১ কেজি (সাফ ও মাঝারি টুকরো)
- আলু – ৩–৪টি (খোসা ছাড়িয়ে মাঝখান দিয়ে কাটা)
- পেঁয়াজ – ৩টি (কুচি করা)
- আদা – ২ টেবিল চামচ (পেস্ট)
- রসুন – ১ টেবিল চামচ (পেস্ট)
- টমেটো – ২টি (বাটা)
- হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- লঙ্কা গুঁড়ো – ১.৫ চা চামচ (স্বাদমতো বাড়ানো যায়)
- ধনে গুঁড়ো – ১ টেবিল চামচ
- জিরে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- গরম মশলা – ১ চা চামচ
- তেজপাতা – ২টি
- শুকনো লঙ্কা – ২টি
- দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ – ২–৩টি করে
- দই – ১/২ কাপ (ফেটানো)
- চিনি – ১ চা চামচ
- লবণ – স্বাদমতো
- সরষের তেল – পর্যাপ্ত
রান্নার পদ্ধতি (Step-by-Step)
১. মেরিনেশন: মাংসে আদা-রসুন বাটা, দই, লবণ, অল্প লঙ্কা গুঁড়ো ও গরম মশলা মেখে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। সময় থাকলে রাতভর রেখে দেওয়া উত্তম।
২. আলু ভাজা: কড়াইয়ে তেল গরম করে আলুগুলোতে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ভেজে তুলে রাখুন।
৩. ফোড়ন: কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ফোড়ন দিন। তারপর কুচানো পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
৪. মশলা কষানো: এবার টমেটো বাটা, আদা-রসুন বাটা বাকি অংশ, লঙ্কা, হলুদ, ধনে ও জিরে গুঁড়ো দিয়ে ধীরে ধীরে কষাতে থাকুন যতক্ষণ না তেল ছাড়ে।
৫. মাংস কষানো: ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে ভালো করে নেড়ে মেশান। ঢেকে মিডিয়াম আঁচে ২০–৩০ মিনিট কষান। মাঝে মাঝে নেড়েচেড়ে দিন যেন পুড়ে না যায়।
৬. আলু ও জল দেওয়া: ভাজা আলু দিয়ে দিন। এবার ২–৩ কাপ গরম জল দিয়ে ঢেকে ২০–২৫ মিনিট (বা প্রেশার কুকারে ৩–৪ সিটি) রান্না করুন।
৭. ফাইনাল টাচ: রান্না হয়ে গেলে চিনি ও গরম মশলা দিয়ে নেড়ে দিন। একটু ঘন রিচ গ্রেভি রেখে গ্যাস বন্ধ করুন।
পরিবেশন ও উপদেশ
✔ গরম ভাত বা লুচি/পরোটা – দুয়ের সাথেই দারুণ লাগে।
✔ রান্নার সময় ধৈর্য ধরে কষাতে হবে – সেটাই আসল স্বাদ আনে।
✔ চাইলে রান্নার শেষে সামান্য ঘি দিতে পারেন বাড়তি গন্ধের জন্য।
✔ মাংসের গুণগত মান ভালো হলে স্বাদ দ্বিগুণ হয়।
✔ তেলের পরিমাণ মাঝারি রাখুন, অত্যধিক হলে ঝোল ভারী হয়ে যেতে পারে।
উপসংহার
পাঁঠার ঝোল শুধু একটি পদ নয়, এটি আবেগের নাম। বছরের পর বছর ধরে রবিবার মানেই এই পদটির গন্ধে জেগে ওঠা। আপনি যদি বাড়িতেই রেস্টুরেন্টের মত রিচ ও ঝাল মাটন কারি তৈরি করতে চান, তাহলে এই রেসিপিটি একবার অবশ্যই ট্রাই করে দেখুন।
এবার আপনি বলুন – রুটি না ভাত, কার সাথে খাবেন আজকের পাঁঠার ঝোল?