লিলুয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ব্যক্তির মৃত্যু, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার দুই

লিলুয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ব্যক্তির মৃত্যু, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার দুই

লিলুয়ায় চোর সন্দেহে ব্যক্তিকে মারধর, মৃত্যু

হাওড়ার লিলুয়ায় চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনির ঘটনায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে লিলুয়া থানা সংলগ্ন এলাকার একটি কারখানায় ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম রাজকুমার চৌহান। বয়স ৪৩ বছর। তিনি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর মৃতদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কারখানায় ঢোকার পরেই মারধরের অভিযোগ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে রাজকুমার চৌহান লিলুয়া থানা সংলগ্ন একটি কারখানায় ঢুকেছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তিনি চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। কারখানার ভিতরে তাঁকে ধরে ফেলার পর কয়েকজন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষণ মারধরের পর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তবে তিনি সত্যিই চুরির উদ্দেশ্যে কারখানায় ঢুকেছিলেন কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

ঘটনার খবর পেয়ে লিলুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের দাবি, ততক্ষণে মৃতদেহটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ

এই ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে মৃতদেহ অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমন চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও তদন্ত চালানো হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকের নাম শুভজিৎ প্যাটেল এবং সুমিত পাসোয়ান। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সেখানে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে হাওড়া পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পৌঁছন। পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনাটি খুনের অভিযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় জোর

রাজকুমার চৌহানের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দলকে তদন্তে যুক্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয়দের বক্তব্যও সংগ্রহ করছেন। কারখানায় কীভাবে রাজকুমার প্রবেশ করেছিলেন, তাঁকে কারা আটক করেছিলেন এবং মারধরের ঘটনায় মোট কতজন জড়িত ছিলেন—এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

চুরির অভিযোগ সত্য কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মৃত ব্যক্তি সত্যিই কারখানায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিলেন কি না। স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করার কথা বললেও, সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনও কারণের জেরে তাঁকে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

লিলুয়ায় এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চোর সন্দেহে কোনও ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হবে। বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল।