ক্যানসার প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা
ক্যানসার ও খাদ্যাভ্যাস: কীভাবে যুক্ত?
ক্যানসার একটি জটিল এবং জীবনঘাতী রোগ। যদিও সম্পূর্ণভাবে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব না, তবে খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দৈনন্দিন খাবারের ধরন ও মান ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতেও পারে আবার কমাতেও পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ক্যানসার কোষ গঠনের প্রক্রিয়াকে রোধ করে।
কোন কোন খাদ্য উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে?
১. শাকসবজি ও ফলমূল: ব্রকোলি, গাজর, টমেটো, পালং শাক, বীট, কলা, আপেল, আঙুর ইত্যাদি ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীর থেকে ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে। এগুলো ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধে কার্যকর।
২. হলুদ ও আদা: হলুদের কারকিউমিন উপাদান এবং আদার জিঞ্জারল উপাদান ক্যানসার বিরোধী গুণে সমৃদ্ধ। এগুলো কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন ঠেকাতে সাহায্য করে।
৩. বাদাম ও বীজ: আখরোট, আমন্ড, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড প্রভৃতি ওমেগা-৩ ও ফাইবার সমৃদ্ধ। এগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেম মজবুত করে ও ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৪. গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিনস নামক উপাদান শরীরের টক্সিন কমায় এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে।
৫. সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার: ব্রাউন রাইস, ওটস, বার্লি, কোদো প্রভৃতি খাদ্যে থাকা ফাইবার পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখে ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
৬. জল: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের টক্সিক উপাদান দূর করে দেয়, যা কোষকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
কোন ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত?
✓ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন প্যাকেট চিপস, কোল্ড ড্রিংক, প্রিজারভেটিভ যুক্ত খাবার।
✓ অতিরিক্ত চিনি ও তেলযুক্ত খাবার
✓ গ্রিল বা চর্চর করা মাংস, বিশেষ করে রেড মিট
✓ অতিরিক্ত অ্যালকোহল
উপসংহার: প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ক্যানসার প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুমও ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। ক্যানসার প্রতিরোধ শুরু হোক আজ থেকেই — আপনার প্লেট থেকে।