নরমাল ওজন বজায় রাখার ১০টি কার্যকর কৌশল
ওজন ঠিক রাখতে হলে কেন সচেতন হওয়া দরকার?
অনেকেই ওজন কমানো নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, কিন্তু ওজন কমে গেলে সেটিকে ধরে রাখা আরও কঠিন। ওজন বাড়লেও যেমন নানা রোগের ঝুঁকি থাকে, তেমনি অতিরিক্ত ডায়েট করে ওজন কমিয়ে ফেললেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন ঠিক রাখা বা নরমাল ওজন বজায় রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে শরীর যেমন ফিট থাকে, তেমনই মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে।
নরমাল ওজন বজায় রাখার ১০টি কার্যকর কৌশল
১. প্রতিদিনের ওজন মেপে দেখা নয়: প্রতিদিন ওজন মাপার অভ্যাস বাদ দিন। সপ্তাহে একবার সকালে খালি পেটে ওজন মাপা যথেষ্ট। এতে আপনি মনঃসংযোগ হারাবেন না এবং ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমবে।
২. পরিমাণমতো খাওয়া: পেট ভরে খাওয়া ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত নয়। ৮০% পেট ভরে খাবার খেলে শরীর হালকা থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে না।
৩. প্রোটিন এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া: প্রোটিন যেমন পেশি বজায় রাখতে সাহায্য করে, তেমনি ফাইবার হজমে সহায়ক ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
৪. পানির পরিমাণ বাড়ান: প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন। জল শরীরের টক্সিন দূর করে ও ক্ষুধা কমায়।
৫. জাঙ্ক ফুড ও প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন: এগুলো অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ফ্যাটে ভরপুর। তাই এগুলো সীমিত করাই ভালো।
৬. সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন ব্যায়াম: ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, যোগা বা কোনো ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি রাখুন। ব্যায়াম না করলেও সক্রিয় থাকুন।
৭. ঘুম ঠিক মতো হওয়া: প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুম ঠিক না হলে ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
৮. মানসিক চাপ কমান: স্ট্রেস বাড়লে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায় যা চর্বি জমাতে সহায়তা করে। ধ্যান, বই পড়া, বা মিউজিক শুনে চাপ কমাতে পারেন।
৯. রেগুলার লাইফস্টাইল মেনে চলুন: খাওয়া-দাওয়া, ঘুম ও কাজের নির্দিষ্ট রুটিন থাকলে শরীর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে সহজেই।
১০. শরীরকে ভালোবাসুন: ওজন ঠিক রাখতে নিজেকে ভালোবাসা জরুরি। আত্মবিশ্বাস ও পজিটিভ মনোভাব শরীরকে অনেক বেশি সুস্থ রাখে।
উপসংহার
ওজন ঠিক রাখা মানে কোনো চাপ নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা। ধীরে ধীরে এই কৌশলগুলি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করলে আপনি সুস্থভাবে নরমাল ওজন বজায় রাখতে পারবেন। মনে রাখবেন, শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে।